ব্রিটেনের উইল্টশায়ারে মার্কিন বিমান বাহিনীর কর্মীদের ব্যবহৃত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির উপর দিয়ে একটি ইউএসএএফ বি-১ বোমারু বিমান উড়ে যাচ্ছে। (ছবি-রয়টার্স)
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬ | ১০:৩৮ | আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২৬ | ১০:৪০
আরও পড়ুন
বিশ্বকাপ দেখতে আসা বাংলাদেশিদের ২২% কানাডায় অ্যাসাইলাম চেয়েছেন এখন পর্যন্ত
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগীদের সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। এই সতর্কবার্তায় সুনির্দিষ্টভাবে যুক্তরাজ্য এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এসব দেশের ওপর বিশেষ নজর রাখছে ইরান- এমন ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন বোমারু বিমান নিয়ে ইরানের সতর্কবার্তার পর দেশ রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে পাল্টা জবাব দিয়েছে যুক্তরাজ্য। ইরানের সতর্কবার্তার জবাবে যুক্তরাজ্য বলেছে, ব্রিটেনের নীতি অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশটি একটি বৃহত্তর সংঘাতে জড়িয়ে পড়া এড়িয়ে আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে তার জনগণ, স্বার্থ এবং মিত্রদের রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের কাছে লন্ডনে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র থাকতে পারে, কিন্তু সেটি সম্ভবত নির্ভুল হবে না এবং ঝুঁকি কম।
বার্তা সংস্থা রয়র্টাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি থেকে মার্কিন বোমারু বিমানকে উড়তে না দেওয়ার জন্য সতর্কবার্তা জারি করার পর ব্রিটেন বলেছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করতে প্রস্তুত।
সম্প্রতি মার্কিন বি-১ বোমারু বিমানগুলো যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটি ব্যবহার করেছে। এ বিষয়টি উল্লেখ করে ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করলে যুক্তরাজ্য, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো কিংবা অন্য যেকোনো দেশ ইরানের ‘বৈধ’ও নিশ্চিত সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের ইসলামী রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এ কথা বলেন। তিনি জানান, ইরান যেকোনো সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছে।
আইআরজিসি দাবি করেছে, যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ বা উত্তেজনা মোকাবিলা করার জন্য তারা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং কৌশলগত প্রস্তুতি তৈরি করে রেখেছে। এই বিবৃতির মাধ্যমে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, অঞ্চলটিতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কতটা তীব্র। ইরান মূলত এই অঞ্চলে পশ্চিমা ও প্রতিবেশী দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বা লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া থেকে বিরত রাখতে এই প্রতিরোধমূলক অবস্থান নিয়েছে।
হোসেইন মোহেব্বি আরও বলেন, ‘প্রতিটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য আমাদের আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে।’ আইআরজিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের ফেয়ারফোর্ড থেকে ইরানের বিরুদ্ধে বোমাবর্ষণ অভিযান চালিয়েছে। এ ধরনের হামলা চালানোর জন্য ব্যবহৃত যেকোনো ঘাঁটি একটি বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে।
যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি
এদিকে নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে গত সপ্তাহে জানানো হয়েছে, লন্ডন একটি বিদ্যমান চুক্তিতে পুনরায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে এই অঞ্চলের সম্মিলিত আত্মরক্ষার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দেয়। সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাজ্যকে যেকোনো ধরনের আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে প্রস্তুত, তা আমাদের মাটিতেই হোক বা বিদেশ থেকে।’ এর মধ্যে রয়েছে আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার জন্য একটি স্তরভিত্তিক কৌশল পরিচালনা করা। এটি রয়্যাল নেভি, ব্রিটিশ আর্মি এবং রয়্যাল এয়ার ফোর্সের বিভিন্ন উন্নত সক্ষমতাসম্পন্ন সরঞ্জাম দ্বারা সরবরাহ করা হয় যা ন্যাটো মিত্রদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে।’
মার্কিন প্রতিরক্ষা অভিযানে সমর্থন দিতে সম্মত
রয়টার্স বলছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা অভিযানে সমর্থন দিতে সম্মত হয়েছে ব্রিটেন। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, বিদ্যমান এই ব্যবস্থার আওতায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ আক্রমণের জন্য ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও সক্ষমতা দুর্বল করার মার্কিন প্রতিরক্ষা অভিযান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইরানে একটি অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি কার্যকরভাবে ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র টানা দুই সপ্তাহ ধরে দেশটির ওপর হামলা চালিয়েছে। তেহরান প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে গুলি চালিয়েছে। গত মার্চ মাসে, ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত মার্কিন-যুক্তরাজ্য সামরিক ঘাঁটিতে ইরান দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল বলে জানা গেছে। তবে কোনোটিই লক্ষ্যে আঘাত হানেনি। ২ মার্চ দক্ষিণ সাইপ্রাসে ব্রিটেনের আক্রোতিরি বিমানঘাঁটি ইরানি একটি শাহেদ ড্রোনের আঘাতে সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইরানের বিরুদ্ধে ব্রিটিশদের অভিযোগ
ব্রিটেন দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে সাইবার হামলা চালানো এবং যুক্তরাজ্যে বিরোধী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের লক্ষ্যবস্তু করতে অপরাধী চক্র ও প্রক্সি ব্যবহার করার জন্য অভিযুক্ত করে আসছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গত এক বছরে ইরান-সমর্থিত ২০টি সম্ভাব্য প্রাণঘাতী ষড়যন্ত্র হয়েছে। রাষ্ট্র-সমর্থিত প্রক্সিদের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার মোকাবিলার জন্য আনা নতুন ক্ষমতা ব্যবহার করে ব্রিটেন এই মাসে আইআরজিসিকে সমর্থন নিষিদ্ধ করেছে। লন্ডনে ইহুদি স্থাপনাগুলোতে একের পর এক হামলার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
ব্রিটিশ সরকার বলেছে, এই হামলাগুলোর বেশ কয়েকটির জন্য দায়ী বলে মনে করা একটি দলকে। আইআরজিসি ‘প্রায় নিশ্চিতভাবেই’ তাদের নির্দেশ দিয়েছিল। লন্ডনে একটি ফার্সি ভাষার গণমাধ্যমে কর্মরত এক সাংবাদিককে ছুরিকাঘাত করার দায়ে চলতি মাসে দুই রোমানিয়ান নাগরিককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যাদের সম্পর্কে প্রসিকিউটররা বলেছেন, তারা ইরানের হয়ে কাজ করছিল। তেহরান বরাবরই এই ধরনের হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দিয়েছে।