‘মানুষ তো মারা যাওয়ার পরে একটু শান্তিতে থাকার কথা, কিন্তু তা-ও পারে না। একটু বৃষ্টি হলেই সড়ক, ঘরবাড়ি, রান্নাঘর ও কবরস্থান তলিয়ে যায়। সরকার আসে সরকার যায়, চেয়ারম্যান- মেম্বার আসে-যায়, জনগণের কাছে সবাই ওয়াদা দেয়, কিন্তু কাজের সময় কেউ কাজ করে না।’ কথাগুলো বলছিলেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার পাটগাতীর মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম শেখ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যপাড়া গ্রামে পাঁচ শতাধিক পরিবারের বসবাস। এ ছাড়া গ্রামটিতে ছয়টি কবরস্থান, চারটি মসজিদ, দুটি মাদ্রাসা ও চারটি গণশিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। প্রায় ১০ বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধ হয় ছয়টি কবরস্থানসহ দুই শতাধিক পরিবারের বসতভিটা। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি চেয়ারম্যান-মেম্বরদের মৌখিক ও লিখিতভাবে জানালেও তাঁদের দুর্ভোগের অবসান হয়নি। এতে প্রতিবছর ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হতে হয় মুসল্লি, শিক্ষার্থীসহ সবাইকে।

একাধিক রাজ্যে ধরপাকড়, ককরোচেরা উদ্বিগ্ন আরও পড়ুন একাধিক রাজ্যে ধরপাকড়, ককরোচেরা উদ্বিগ্ন

একই গ্রামের সিরাজুল ফকির, নাসির শিকদার, সৈয়দ আতিয়ার রহমান, মজিবুর শেখ জানান, তাঁদের গ্রামে বসবাসরত অধিকাংশ মানুষই চুলায় রান্না করেন। বেশির ভাগেরই গ্যাস ক্রয়ের সামর্থ্য নেই। তাই অনেকে এক বেলা কোনোমতে খেয়েও দিন কাটাচ্ছেন, আবার কেউ তিন বেলাই হোটেলে গিয়ে খেয়ে আসছেন। কারণ, সবার বাড়ির উঠান ও রান্নাঘর পানিতে তলিয়ে গেছে।

পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘ইউএনও স্যার পানি নিষ্কাশনের নির্দেশ দিয়েছেন। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু হবে।’

বিজ্ঞাপন

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম বলেন, ‘টুঙ্গিপাড়া যেহেতু নিচু এলাকা, তাই বৃষ্টি হলেই অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনে জরুরি ভিত্তিতে পানি অপসারণের জন্য প্যানেল চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছি।’