চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার মুশরীভূজা বটতলা গ্রামে সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলার পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে পুরো গ্রাম। অনেক পরিবারের প্রধানেরা আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ ও আর্থিক সংকট।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দুই মামলায় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন—এমন অনেক নিরীহ মানুষকেও মামলায় জড়ানো হয়েছে। এতে গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা।
আরও পড়ুন
চট্টগ্রামের হালিশহরে কারখানায় আগুন
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দিন আগে পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত হন আসাদুল হক (৪৫) নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী। এই ঘটনায় নিহত ব্যক্তির স্ত্রী আজিনুর খাতুন ৪৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
অন্যদিকে সংঘর্ষে নিজের ছোট ভাইকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে প্রতিপক্ষের নুরেশা খাতুন ২১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ জনকে আসামি করে পাল্টা মামলা করেন।
গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ বাড়িতে পুরুষ সদস্য নেই। কেউ আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, আবার কেউ অন্য জেলায় গিয়ে অবস্থান করছেন। সন্ধ্যার পর গ্রামজুড়ে নেমে আসে একধরনের নীরবতা। অনেক পরিবার এখন নারী ও শিশুদের ওপর নির্ভর করে চলছে।
স্থানীয় দলদলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্যানেল চেয়ারম্যান জুয়েল রানা বলেন, ‘দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলায় গ্রামটি এখন কার্যত পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। অনেক নারীও বাসায় থাকতে পারছেন না। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। আমরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রশাসনের কাছে গ্রামটিতে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে নিরপরাধ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয় এবং প্রকৃত অপরাধীরা যাতে শাস্তির আওতায় আসে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।’
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে। নির্দোষ কাউকে হয়রানি করা হবে না।