২৩ জুলাই ২০২৬ | ২০:৩৮ | আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ২১:৩৫

বাবার দাফন শেষে রাতেই এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন এবং পরদিন এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আলোচনায় আসা বাগেরহাটের ইসমাইল ইকনের পাশে দাঁড়িয়েছে শিক্ষামন্ত্রী, জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক।

নিপীড়নের বিরুদ্ধে মশাল জ্বেলে গানে গানে প্রতিবাদ শিক্ষার্থীদের আরও পড়ুন নিপীড়নের বিরুদ্ধে মশাল জ্বেলে গানে গানে প্রতিবাদ শিক্ষার্থীদের

বুধবার রাতে শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ফারহান ইশতিয়াক ইসমাইল ইকনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, এইচএসসি পরীক্ষার সময় যাতে ইকনকে রাতের দায়িত্ব পালন করতে না হয়, সে জন্য শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনায় আগামী দু-এক দিনের মধ্যে জরুরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া, এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ইকনের উচ্চশিক্ষার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহনের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন ইকনকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে নেন। এ সময় তিনি আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবা উদ্দিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুন এবং ইকনের মামা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের বাগেরহাট আঞ্চলিক কার্যালয়ে ইকনের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে পূর্ণ বেতনে এক মাসের ছুটি দেওয়া হয়েছে। খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. আবু হাশেম মিয়া এই সহায়তা প্রদান করেন। তিনি বলেন, ইকনের বাবার মৃত্যুতে তারা শোকাহত। প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনা ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলীর পক্ষ থেকে ইকনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও তার পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

এছাড়াও দেশ-বিদেশের অনেকেই ইকনের পাশে দাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ইকনের শিক্ষা অব্যাহত রাখতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে জানান ইসমাইল ইকন। ইকন বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পরে জীবনটা আরও কঠিন হয়ে গেছে। বাবার শোক, চাকুরী ও পরীক্ষা সবই এক সাথে সামলাতে হয়েছে। তবে বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে প্রতিবেশী, আত্মীয় স্বজন ও বিভিন্ন বড় বড় মানুষ আমার খোজ নিয়েছে।

ইকন আরও বলেন, আর্থিক সহযোগিতার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর পিএ আমাকে ফোন দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক ডেকে তার কাছে নিয়েছেন, আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ টাকা দিয়েছেন, আবার এক মাসের ছুটি দিয়েছেন পূর্ণ বেতনে। লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশন আমার পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। আমি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ।

উল্লেখ্য, বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া গত মঙ্গলবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সেদিন বিকেলে বাবার দাফন শেষে রাতেই তিনি কৃষি ব্যাংকের এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন করেন। পরদিন সকালে সরকারি পিসি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে দেশজুড়ে ব্যাপক সহানুভূতি তৈরি হয়। চলতি বছরের মে মাস থেকে ইকন কৃষি ব্যাংকের এটিএম বুথে কর্মরত। এর আগে পড়াশোনার খরচ চালাতে তিনি টিউশনি করতেন।