বাংলাদেশের বাইশতম রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিন বছর তিন মাস আগে শপথ নেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে এই পদের মেয়াদ পাঁচ বছর।

বুধবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত কয়েকটি পত্রিকায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ করতে পারেন বলে খবর প্রকাশ হয়েছে। এসব খবরে বলা হয়েছে, শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি।

একাধিক রাজ্যে ধরপাকড়, ককরোচেরা উদ্বিগ্ন আরও পড়ুন একাধিক রাজ্যে ধরপাকড়, ককরোচেরা উদ্বিগ্ন

বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র প্রথম আলোতে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত খবরে বলা হয়েছে, পদত্যাগের কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতাকে উল্লেখ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

একইসঙ্গে, সরকার ও বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এতে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের জন্য ইতোমধ্যে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনিও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন শুনেছেন বলে জানান।

সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আপনি নিজেই বললেন এটা একটা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তো গুঞ্জন তো গুঞ্জনই। আর এটা যদি ঘটনা হয় সেটাতো আমরাও দেখবো।"

এ সময় সাংবাদিকরা গণমাধ্যমে খবরও প্রকাশিত হয়েছে উল্লেখ করলে তিনি প্রশ্ন করেন, "গণমাধ্যমে আসছে? হতে পারে, আপনারা রাষ্ট্রপতিকে জিজ্ঞেস করেন।"

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

প্রক্রিয়া কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে অথবা স্বাস্থ্যগত কারণে, যে কোনো কারণে চাইলে, তার সেটা অপশন আছে।

এক্ষেত্রে সরকারের পদক্ষেপ কী এমন প্রশ্নে মি. আহমদ বলেন, "সরকারের কোনো পদক্ষেপ নাই এখানে।"

রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত সাংবাদিকরা উল্লেখ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "সরকারের পক্ষ থেকে তো আর কিছু বলা হচ্ছে না। আপনারা পত্রিকায় দেখছেন যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে ইত্যাদি, আমিও শুনছি।"

উনি স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করছেন কি না এমন প্রশ্নে রাষ্ট্রপতিকেই প্রশ্নটি করতে বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মি. আহমদ।

পরে মি. আহমদ বলেন, "উনি চিকিৎসার্থে কিছুদিন আগে বিদেশে গিয়েছিলেন তো চিকিৎসা তো নিতেই পারেন।"

কিন্তু পাঁচ বছরের নির্ধারিত মেয়াদের আগেই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এসব নিয়ে মানুষের মাঝে কৌতুহলও রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি কার কাছে পদত্যাগপত্র দেবেন অথবা তার অনুপস্থিতিতে কে দায়িত্ব পালন করবেন- এমন নানা প্রশ্নও আলোচনায় আসছে।

সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক বিবিসি বাংলাকে বলেন, "নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। ম্যাক্সিমাম তিন মাসের মধ্যে সংসদে নির্বাচন হতে হবে।"

End of বিবিসি বাংলার অন্যান্য সংবাদ

ছবির উৎস, Bangladesh Nationalist Party-BNP

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি। সংবিধান অনুযায়ী, একজন রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। সর্বোচ্চ দুই বার দায়িত্ব পালন করতে পারেন তিনি।

২০২৩ সালের ২৪শে এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।

সেসময় আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম অনুযায়ী, প্রথম স্থানে থাকা রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন সময়ের হিসাবে প্রায় তিন বছর তিন মাস ধরে এই পদে রয়েছেন।

তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

তাহলে মেয়াদের আগেই এখন পদত্যাগ করতে চাইলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে, সেটি সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া আছে বলে জানান সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক।

মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পদত্যাগ করতে হলে এখন সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের কাছে তাকে পত্র জমা দিতে হবে বলে জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ সম্পর্কে সংবিধানের ৫০ এর তিন অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, "স্পিকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে রাষ্ট্রপতি স্বীয় পদ ত্যাগ করতে পারবেন।"

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণ উল্লেখ করে দেওয়া পত্রটি খুব ছোট হয় বলে জানান তিনি।

"উনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন। স্বেচ্ছায় হোক বা চাপে পড়ে হোক, যেটাই হোক উনি লিখবেন, আমি স্বাস্থ্যগত বা ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করলাম। পদত্যাগ ইমিডিয়েটলি কার্যকর হয়।এটা দুই লাইনের চিঠি হয় সাধারণত। সাধারণত ব্যক্তিগত কারণই উল্লেখ করেন সকলে" বলেন মি. মালিক।

একইসঙ্গে, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সাথে সেটি গ্রহণ বা গ্রহণ না করার কোনো সম্পর্ক নেই বলেও উল্লেখ করেন এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।

"এসব পদে পদত্যাগপত্র হ্যান্ডওভার করলেই কার্যকর হয়ে যায় সাধারণত। মানে পদত্যাগপত্রটা স্পিকারের কাছে পৌঁছে দিলেই স্পিকার পাওয়ার সময় থেকেই কার্যকর হবে, মানে এখানে গ্রহণ করার, না গ্রহণ করার কোনো স্কোপ নাই। পদত্যাগপত্র লিখলেই এটা গ্রহণীয়।"

বিবিসি বাংলার সঙ্গে ইনস্টাগ্রামে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক/ ট্যাপ করতে পারেন

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই পদ শূন্য থাকবে না বলে জানান শাহদীন মালিক।

সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদে অনুপস্থিতি প্রভৃতির কালে রাষ্ট্রপতি পদে স্পিকার থাকবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, "রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে ক্ষেত্রমত রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত