২১ জুলাই ২০২৬ | ২০:১৮ | আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৬ | ২০:২০
নারায়ণগঞ্জ নগরীর হাজীগঞ্জে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। স্মৃতিস্তম্ভটি সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তায় থাকলেও মঙ্গলবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন
শিল্প, জলবায়ু ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তিকে একসূত্রে আনল ‘দ্য তত্ত্বমসি সার্কেল’
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার ভোররাত ৩টার দিকে দুর্বৃত্তরা স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়। তবে এখনো তাদের শনাক্ত করা যায়নি।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে আশপাশের সড়ক ও এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজে দুই ব্যক্তিকে মোটরসাইকেলে এসে আগুন লাগিয়ে চলে যেতে দেখা গেছে। তবে অন্ধকারের কারণে তাঁদের চেহারা স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে না।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বা তাদের কোনো সংগঠনের কেউ জড়িত কিনা, তা তদন্তের পর নিশ্চিত করে বলা যাবে। আমরা দ্রুত অগ্নিসংযোগকারীদের শনাক্তের চেষ্টা করছি।’
স্মৃতিস্তম্ভটির পাশে স্থাপিত পুলিশ ক্যাম্পে ১২ ঘণ্টা করে দুই শিফটে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। ঘটনার সময়ও ক্যাম্পে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলম।
ওসি মাহবুব আলম বলেন, ‘দূর থেকে ছোট কোনো কাপড়ের দলায় আগুন ধরিয়ে ছুড়ে মারা হলে তা স্মৃতিস্তম্ভের পাশে থাকা কাপড়ে ধরে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন বেশি ছিল না। পুলিশ সদস্যরা দ্রুত তা নেভাতে সক্ষম হন।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে পুলিশ সদস্যদের দৌড়ে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়। তবে আগুনকে বড় করে দেখাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন ওসি।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে ২০২৫ সালের ১৪ জুলাই হাজীগঞ্জে স্মৃতিস্তম্ভটি উদ্বোধন করা হয়। এটি দেশের প্রথম জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ। পরে দেশের বিভিন্ন জেলায় একই নকশায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। এসব স্মৃতিস্তম্ভে গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের নাম লেখা রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘ঘটনার সময় ক্যাম্পে থাকা পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে। তদন্তের পরই আগুন দেওয়ার সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।’