বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ; রাষ্ট্রপ্রধানের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন— এ সংক্রান্ত খবর আজ শনিবার ঢাকার পত্রিকার প্রথম পাতায় প্রাধান্য পেয়েছে। এছাড়া, জোরপূর্বক শ্রম রোধে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৮৬টি দেশের জন্য মার্কিন নতুন শুল্ক এবং বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ ও আমেরিকায় পণ্য পরিবহনে জাহাজ ভাড়া বেড়েছে ৫০ শতাংশ— এমন খবরও রয়েছে।
টাইমস অব বাংলাদেশের প্রধান খবর— Shahabuddin deal lets BNP breathe; অর্থাৎ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ সমঝোতায় স্বস্তিতে বিএনপি।
আরও পড়ুন
বিশ্বকাপ দেখতে আসা বাংলাদেশিদের ২২% কানাডায় অ্যাসাইলাম চেয়েছেন এখন পর্যন্ত
এই খবরে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ শাসনামালে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নানা জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে পদত্যাগ করেছেন।
তিনি সরে দাঁড়ানোয় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তবে এটি হুট করে ঘটা কোনো ঘটনা নয়।
সরকারের সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সাহাবুদ্দিনকে পদে বহাল রাখা হবে কি না, তা নিয়ে দলটির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনা চলছিল। বিষয়টি সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতিও জানতেন।
শেষ পর্যন্ত অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তার পদত্যাগ; বিএনপি সরকার ও রাষ্ট্রপতি— উভয় পক্ষের জন্যই সম্মানজনক সমাধান হিসেবে সামনে এসেছে।
বিএনপি ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন বলেও নিশ্চিত করছেন নেতারা।
এর ফলে একদিকে নতুন সরকার রাজনৈতিক সংঘাত বা সাংবিধানিক সংকট এড়াতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে শেখ হাসিনার আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিও অভিশংসনের মতো বিতর্কিত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি না হয়ে মর্যাদাপূর্ণভাবে দায়িত্ব ছাড়ার সুযোগ পেয়েছেন।
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
দ্য ডেইলি স্টারের প্রথম পাতার একটি শিরোনাম— 'I resigned without any pressure': Shahabuddin tells Star; অর্থাৎ সাহাবুদ্দিন জানালেন, কোনও চাপ ছাড়াই তিনি পদত্যাগ করেছেন।
এই খবরে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদে সাহাবুদ্দিনের পাঁচ বছরের মেয়াদের আরও এক বছর নয় মাস বাকি ছিল। তবে তার আগেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে সরে গেলেন তিনি।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর তিনি দৈনিকটির সাথে কথা বলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এই কথোপকথনে সাহাবুদ্দিন জানান, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। এছাড়া, বঙ্গভবনের জীবনকে তিনি সীমাবদ্ধ বলে বর্ণনা করেছেন এবং এখন নিজেকে মুক্ত মনে করছেন। এই 'মুক্তিকে' তিনি বড় অর্জন বলেও মনে করছেন।
'আমি দীর্ঘদিন ধরেই পদত্যাগের কথা ভাবছিলাম। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্বাধীনভাবে যাতায়াত করতে না পারায় মানসিক চাপের মধ্যে ছিলাম'— যোগ করেন সদ্য সাবেক এ রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে দলগুলোর প্রতিক্রিয়া কী, তা নিয়ে প্রথম পাতায় একটি খবর ছেপেছে এই ইংরেজি দৈনিক। যেটির শিরোনাম— Resignation draws mixed reactions।
মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, 'আমরা এটিকে (রাষ্ট্রপতি পদ) একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখি। আমরা দেখেছি তিনি যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তিনি আমাদের সরকারকে সহযোগিতা করেছেন।'
জুলাই অভ্যুত্থানের আগে সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, 'তিনি যেহেতু স্বৈরাচারী সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তাই সেই সময়কার কিছু সমালোচনা ছিল।'
'তবে, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আগে ৫ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত তিনি যে ভূমিকা পালন করেছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সংকটের সময়ে রাষ্ট্রকে সাংবিধানিক পথে রাখার ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার' যোগ করেন তিনি।
এদিকে, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বলেছে, সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ আরও আগেই হওয়া উচিত ছিল।
রাষ্ট্রপ্রধানের পদত্যাগের পর জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান তার সরকারি বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলন ডাকেন। যেখানে তিনি বলেছেন, দেরিতে হলেও অবশেষে জাতির কাঁধ থেকে স্বৈরাচারের কালো ছায়া সরে গেল।
সাহাবুদ্দিনকে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছে এনসিপি। তাকে যেন নিরাপদে দেশ ত্যাগের সুযোগ দেওয়া না হয়, সেজন্য আহ্বান জানিয়েছে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
ইনস্টাগ্রামে বিবিসি বাংলা ফলো করতে ক্লিক/ট্যাপ করুন এখানে
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:
আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর— বঙ্গভবন ছেড়ে কাল উঠছেন গুলশানে নিজের ফ্ল্যাটে।
এই খবরে বলা হয়েছে, পদ ছাড়লেও আরও দুই দিন বঙ্গভবনে অবস্থান করবেন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
আজ শনিবার বঙ্গভবনে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিদায়ী বৈঠক করবেন তিনি। পদত্যাগের পরে মো. সাহাবুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন— এমন গুঞ্জন ছড়িয়েছিল গতকাল শুক্রবার বিকেলে। তবে সেটি নাকচ করেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম।
তিনি আরও বলেছেন, পদত্যাগ করলেও মো. সাহাবুদ্দিন প্রটোকলের (রাষ্ট্রাচার) বাইরে যাননি । নিয়ম অনুযায়ী আগামী ছয় মাস তিনি প্রটোকল পাবেন। নিয়ম মোতাবেকই তিনি বঙ্গভবন থেকে বিদায় নেবেন।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন গুলশান-১ নম্বরে নিজের ফ্ল্যাটে থাকতেন। বঙ্গভবন থেকে বিদায় নেওয়ার পরে তিনি পুরোনো ঠিকানাতেই ফিরবেন বলে জানা গেছে।
প্রথম আলোর দ্বিতীয় প্রধান খবর— বিএনপির স্থায়ী কমিটি থেকেই আসতে পারেন নতুন রাষ্ট্রপতি।
খবরটিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
সরকার গঠনের পর থেকেই এ পদে বিএনপির জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও গত দুই দিনে সম্ভাব্যদের তালিকায় নতুন কয়েকটি নাম যুক্ত হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর ভাষ্য, সম্ভাব