১৭ জুলাই ২০২৬ | ০২:২১
বাংলাদেশে মাথাপিছু প্লাস্টিকের ব্যবহার বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের তুলনায় কম। তবে প্লাস্টিকের যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবই পরিবেশ দূষণের বড় কারণ। বর্তমান বাস্তবতায় প্লাস্টিক পুরোপুরি বাদ দেওয়া সম্ভব নয়, তাই এর সঠিক ব্যবহার, পুনর্ব্যবহার ও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা।
আরও পড়ুন
চট্টগ্রামের হালিশহরে কারখানায় আগুন
বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ‘বাংলাদেশে টেকসই প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: চ্যালেঞ্জ ও অংশীদারদের দায়িত্ব’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে।
বৈঠকে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন, সবাই এগিয়ে এলে প্লাস্টিক বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব। পরিবেশ রক্ষায় কাজ করা সব প্রতিষ্ঠান ও অংশীজনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শুধু পরিবেশ দিবস নয়, সারা বছরই প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাজ চলবে।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ইউরোপ ও আমেরিকার অনেক দেশে মাথাপিছু বছরে ১০০ কেজির বেশি প্লাস্টিক ব্যবহার হলেও বাংলাদেশে তা ১০ থেকে ১১ কেজি। কিন্তু উন্নত দেশগুলোতে প্লাস্টিক ব্যবহার হলেও তা সড়ক, নদী বা জলাশয়ে ফেলে দেওয়া হয় না। বাংলাদেশেও সচেতনতা বাড়াতে হবে।
ব্র্যাকের পরিচালক ড. মো. লিয়াকত আলী বলেন, পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে শুরুতেই অতিরিক্ত ভ্যাট-ট্যাক্স আরোপ না করে উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ইউনিলিভার বাংলাদেশের কান্ট্রি প্রকিউরমেন্ট লিড দিলরুবা আহমেদ চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী বাজারে যতটুকু প্লাস্টিক ছাড়ে, অন্তত ততটুকু বা তার বেশি প্লাস্টিক সংগ্রহের প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে ২০২২ সাল থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও একটি অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প পরিচালনা করা হচ্ছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার বলেন, দক্ষিণ ঢাকায় প্রতিদিন ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৩০০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ প্লাস্টিক। এই বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জ।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, শিল্পাঞ্চল হওয়ায় গাজীপুরে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়। তাই রিসাইক্লিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে গাজীপুরমুখী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী খাদেম ইউসুফ বলেন, কাঁচামালের সরবরাহ, মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ এবং কম মূল্যমানের প্লাস্টিকের বাণিজ্যিক অযোগ্যতা পুনর্ব্যবহার শিল্পের বড় সংকট। সবাই উচ্চমূল্যের প্লাস্টিক নিয়ে কাজ করতে চাইলেও নিম্নমূল্যের প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারে আগ্রহ কম।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল কাদের ইবনে কামাল বলেন, প্লাস্টিক নিজে কোনো ক্ষতিকর উপাদান নয়; সমস্যার মূল কারণ এর ভুল ব্যবস্থাপনা। সঠিকভাবে সংগ্রহ, পৃথকীকরণ ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা গেলে প্লাস্টিক মূল্যবান সম্পদে পরিণত হতে পারে।