সাইবার স্পেস ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অবৈধভাবে মাদক বেচাকেনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে পাস হওয়া মাদক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল ২০২৬ নিয়ে এক ধরনের আলোচনা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ উঠছে যে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মাদক অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে মাদক উদ্ধার বাধ্যতামূলক না রেখে অনলাইন কিংবা ইলেকট্রনিক যোগাযোগের মাধ্যমে মাদক কেনা, বেচা, সরবরাহ ও বিজ্ঞাপন করার মতো কিছু বিষয়কে সর্বোচ্চ শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

একাধিক রাজ্যে ধরপাকড়, ককরোচেরা উদ্বিগ্ন আরও পড়ুন একাধিক রাজ্যে ধরপাকড়, ককরোচেরা উদ্বিগ্ন

"ধরুন, একজন আপনাকে জিজ্ঞেস করলো - 'জিনিস আছে?' আপনি লিখলেন — 'দেখি, জানাই'। এই একটা চ্যাট। একটা স্ক্রিনশট। এইটুকুই যথেষ্ট হতে পারে। কোনো মাদক উদ্ধার লাগবে না। খালি ডিজিটাল প্রমাণ। আর সর্বোচ্চ শাস্তি - মৃত্যুদণ্ড," সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফেরদৌস হোসেন লিখেছেন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায়।

যদিও এর ভিন্নমতও আছে। আইনজীবীদের অনেকে আবার মনে করছেন, মাদকের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি যৌক্তিক এবং সাইবার স্পেসে মাদক অপরাধ প্রতিরোধেও শক্ত ব্যবস্থা থাকাটা প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলছেন, মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ নিয়ন্ত্রণে যে আইন করা হয়েছে তা যৌক্তিক, কারণ সাইবার স্পেসে মাদক সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ বা লেনদেনের প্রমাণ পেলে তো ধরতেই হবে।

তবে আইনটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োগকারীদের সতর্ক থাকতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

ঢাকার আদালতে মাদক সংশ্লিষ্ট মামলায় আইনজীবী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা মো. নাজমুল হাসান বলছেন, আইনটি নিয়ে প্রশ্ন তোলার বড় কারণই হচ্ছে "এ আইনটি অপপ্রয়োগের সুযোগ আছে"।

"যেভাবে যোগাযোগ, ইলেকট্রনিক লেনদেন বা এমন কিছু বিষয়কে রাখা হয়েছে তাতে অনেক নিরীহ মানুষকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসিয়ে দেওয়ার সুযোগ পাবে অসাধুরা," বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, মাদক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল ২০২৬ জাতীয় সংসদে গত ১৩ই জুলাই পাস হলেও এটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর গেজেটে আকারে প্রকাশিত হওয়ার পর কার্যকর হওয়ার কথা। তবে বুধবার পর্যন্ত এই গেজেট হয়নি।

End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

মূলত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ তে কিছু সংশোধনী এনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল ২০২৬ পাস করেছে জাতীয় সংসদ।

বিলটি সংসদে উত্থাপনের সময় এর উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে এখতিয়ারসম্পন্ন সাধারণ আদালতে বিচারের বিধান অক্ষুণ্ণ রেখে একই সাথে মাদক-সংক্রান্ত অপরাধপ্রবণ এলাকাসমূহে পৃথক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার বিধান সংযোজন করা হচ্ছে।

"পাশাপাশি মাদকদ্রব্য সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিস্তার রোধে বিশেষ করে সাইবার স্পেসে সংঘটিত মাদক অপরাধ দমনে নতুন বিধান সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার প্রতিরোধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্রের প্রাধিকার ও ডগ স্কোয়াড গঠনের বিধান সংযোজন করা হয়েছে," ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

সংসদে পাস হওয়া বিল অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাইবার স্পেস, ডিজিটাল ডিভাইস, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য বা মনঃপ্রভাবকারী পদার্থ কেনা, বিক্রি, সরবরাহ, প্রস্তাব, বিজ্ঞাপন, যোগাযোগ, সহায়তা বা অন্য কোনো অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এছাড়া, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল অ্যাসেট বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার বা ব্যবহারের চেষ্টা করেও এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস- এ সম্পর্কিত রিপোর্টে বলেছে, "আইনে আরও বলা হয়েছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের বিচার করতে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে মাদক উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক হবে না"।

এ ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। যদি কোনো অপরাধ আন্তর্জাতিক বা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের অংশ হিসেবে সংঘটিত হয়, তবে অপরাধীকে যে কোনো মেয়াদের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

পাশ হওয়া বিলে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট আদালত বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মাদক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল সাইবার স্পেসের বিভিন্ন রিসোর্স, ডিজিটাল ডিভাইস, ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল অ্যাসেট ও ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ, অপসারণ, বাজেয়াপ্ত বা রাষ্ট্রের অনুকূলে জব্দ করার নির্দেশ দিতে পারবে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, দেশে সাইবার স্পেস ব্যবহার করে মাদকের বিস্তারের প্রবণতা বাড়ছে বলেই এ ধরনের আইন প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল।

"ইয়াবা, ফেনসিডিল, আইস, এলএসডি, কোকেন- এগুলো অনলাইনে ট্র্যাক করে উদ্ধার করেছি। সাইবার স্পেস ব্যবহার করে যে ধরনের ড্রাগই বেচাকেনা করা হোক সেটা ধরার জন্যই কাজ করবো। এতদিন আইনে তা ছিল না। অনলাইনে করোনার মহামারীর সময় অনলাইনে মাদক বেচাকেনা শুরু হয়েছে এবং সেটা বাড়ছে। সে কারণেই সাইবার নজরদারির মাধ্যমে মাদক ট্রেস করার চেষ্টা করছি। সাইবার নজরদারি সবসময় বজায় রাখবো যাতে মাদকের বিস্তার না ঘটে," বলছিলেন তিনি।

বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল ফলো করতে এখানে ক্লিক/ট্যাপ করুন

যারা নতুন আইনের সমালোচনা করছেন তারা বলছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে মাদক উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক না রাখার কারণে সাইবার স্পেসে মাদক কেনা-বেচা কিংবা সরবরাহ বা যোগাযোগের অভিযোগ তুলে নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানির সুযোগ বাড়বে।

আইনজীবী ফেরদৌস হোসেন তার ভেরিফায়েড পাতায় লিখেছেন, "নতুন আইনে মাদক সরবরাহে মৃত্যুদণ্ডের