২৩ জুলাই ২০২৬ | ২৩:২১
রাজধানীর সবুজবাগে বিএনপিকর্মী ইব্রাহিম পলাশকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার পর বিচ্ছিন্ন হওয়া দুই হাতের কবজি নিয়ে চলে যায় হামলাকারীরা। পরে সেগুলো কিছুটা দূরে ফেলে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে তাঁর একটি কবজি উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপরটির খোঁজ চলছে। এদিকে হত্যায় জড়িত সন্দেহে মো. নাঈম নামে একজনকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন
তদন্ত করবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, অভিযানে যাচ্ছে ঔষধ প্রশাসন
ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ সমকালকে বলেন, বুধবার রাতে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে নাঈমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পলাশ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছু তথ্য মিলেছে। তবে মূল অভিযুক্ত মোস্তফা হোসেন রয়েলকে গ্রেপ্তার করা গেলে হত্যার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এর আগে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে সবুজবাগের বাগপাড়া পানির পাম্প এলাকায় হামলার শিকার হন প্রাইভেটকারচালক পলাশ। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাত সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সবুজবাগ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, নাঈমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সবুজবাগের বাগপাড়ার সুজন গলিতে একটি ফাঁকা প্লটের জঙ্গলের মতো স্থান থেকে নিহতের একটি কবজি উদ্ধার করা হয়েছে। তাতে চারটি আঙুল ছিল। এই কবজির কেটে যাওয়া একটি আঙুল ঘটনাস্থলে পাওয়া গিয়েছিল।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থানীয় পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তফা হোসেন রয়েলের ঘনিষ্ঠ একজনের কাছ থেকে টাকা পেতেন পলাশ। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার জের ধরে পলাশ কয়েকদিন আগে রয়েলের বাসায় গিয়ে তাঁকে মারধর করেন। ওই সময় রয়েলের মা বাধা দিতে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়। এতে ভীষণ ক্ষিপ্ত হন রয়েল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবারের হামলা ও হত্যার ঘটনা ঘটে। পলাশকে হত্যার ঘটনায় বুধবার তাঁর বড় বোন জোছনা বেগম বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় চার-পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। এজাহারে তিনি পূর্বশত্রুতার জের ধরে হত্যার কথা বলেছেন। তাঁর অভিযোগ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।