এবার লাল কার্ড বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগান নিজেই। তিনি বলেছেন, তাঁর লাল কার্ড স্থগিত হওয়া নিয়ে বিতর্কের প্রভাব পড়েছে দলের অন্যদের ওপর।

শেষ ৩২-এর ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র–বসনিয়ার খেলায় লাল কার্ড দেখেন বালোগান। নিয়ম অনুযায়ী শেষ ষোলোর ম্যাচে তাঁর থাকার কথা ছিল মাঠের বাইরে। তবে সেই নিয়ম বদলে যায় ফিফার নির্দেশনায়। ফিফার কাছে লাল কার্ড নিয়ে আপিল করে যুক্তরাষ্ট্র।

আজ রাতেই অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন নাহিদ, আগে যাচ্ছেন তাসকিনও আরও পড়ুন আজ রাতেই অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন নাহিদ, আগে যাচ্ছেন তাসকিনও

হোয়াইট হাউস থেকে স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোন দিলেন ফিফা সভাপতিকে। এরপরেই ফিফা থেকে জানানো হলো, লাল কার্ড দেখলেও বালোগানের পরবর্তী ম্যাচ খেলতে কোনো বাধা নেই। ফলে শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামলেন বালোগান।

স্পেন ২ : ০ ফ্রান্স (ফাইনাল)

বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপে একরকম অপ্রতিরোধ্য ফুটবল খেলে সেমিফাইনালে ওঠে এসেছিল ফ্রান্স। সেমিতে স্পেনের বিপক্ষে অনেকের ফেবারিটও ছিল দিদিয়ের দেশমের দলটি। কিন্তু টুর্নামেন্টজুড়ে অবিশ্বাস্য ফুটবল খেলা ফ্রান্সকে সেমিফাইনালে আজ খুঁজেই পাওয়া গেল না। দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখানো স্পেনের কাছে ২–০ গোলে হেরে শেষ চার থেকেই বিদায় নিল দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

এদিন ২২ মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবালের পেনাল্টি গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফেরার কোনো পথই বের করতে পারেনি গতবারের রানার্সআপরা। আলোচিত কিলিয়ান এমবাপ্পে–উসমান দেম্বেলে–মাইকেল ওলিসে ত্রয়ীও গড়তে পারলেন না তেমন কোনো পার্থক্য। উল্টো বিরতির পর পেদ্রো পোরো স্পেনের হয়ে গোল করে ফ্রান্সকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। বিশ্বকাপজুড়ে দাপুটে খেলে ফ্রান্সের এমন বিদায় দলটির সমর্থকদের জন্য বেশ হতাশাজনকই।

বিপরীতে আজ স্পেন ছিল গতিময় ও আগ্রাসী। শুরু থেকে ফ্রান্সের ওপর চাপ তৈরি করেছে তারা। জমাট রক্ষণ, গতিময় মিডফিল্ড ও আগ্রাসী আক্রমণ মিলে অসাধারণ ফুটবল উপহার দিয়েছে তারা। ফ্রান্সকে কোনো সুযোগই দেয়নি ইউরো চ্যাম্পিয়নরা। যার ফল তারা শেষ পর্যন্ত পেয়েছে ফাইনাল নিশ্চিত করে। আগামী রোববার রাতের ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড ম্যাচের জয়ী দল।

৭২ মিনিটে মাঠ ছাড়লেন মাইকেল ওলিসে ও লুকাস দিনিয়ে। আর এ দুজনের পরিবর্তনে মাঠে নেমেছেন রায়ান শেরকি ও থিও হার্নান্দেজ।

মনে হচ্ছিল লামিনে ইয়ামাল গোল করে ম্যাচ সিলাগালা করে দিয়েছেন। কিন্তু ৬৪ মিনিটে করা ইয়ামালের গোলটি বাতিল হয় অফসাইডের কারণে।

ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় থাকা ফ্রান্স এখন আরও বড় বিপদে পড়ল। তারা পিছিয়ে গেল ২–০ গোলে। ৫৮ মিনিটে গোলটি করেছেন পেদ্রো পোরো।

গোলটি অনেকটাই নিজের চেষ্টায় তৈরি করেন পোরো। দানি ওলমোর সঙ্গে দ্রুত ওয়ান-টু পাস খেলে বক্সে ঢুকে পড়েন পরো। এরপর দারুণ স্থিরতায় মাইক মাইনিয়ঁকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান তিনি।

সমতা ফেরানোর অপেক্ষায় থাকা ফ্রান্স ৫৯ মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলার বদলে মাঠে নামিয়েছে দেজিরে দুয়েকে।

বিরতির সময়ই পরিবর্তন আনল ফ্রান্স। পরিবর্তনটি ছিল প্রত্যাশিতও। প্রথমার্ধে হলুদ কার্ড দেখা মিডফিল্ডার আদ্রিয়াঁ রাবিওর বদলে মাঠে নেমেছেন রোমার মিডফিল্ডার মানু কোনে।

বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালের প্রথমার্ধ শেষে ফ্রান্সের বিপক্ষে ১–০ এগিয়ে আছে স্পেন। পেনাল্টি থেকে প্রথমার্ধে একমাত্র গোলটি করেছেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। প্রথমার্ধে চেনা রূপে দেখা যায়নি ফ্রান্সকে।

ম্যাচের ২০ মিনিটে লুকাস দিনিয়ে বক্সের ভেতরে অসাবধানতাবশত লামিনে ইয়ামালকে ফেলে দিলে পেনাল্টি পায় স্পেন। সেই পেনাল্টি থেকে গোল করেন ওইয়ারসাবাল।

এর কিছুক্ষণ পরই ফ্রান্সের দুশ্চিন্তা আরও বাড়ে। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন দলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা।

এই বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে এতটা অস্থির আগে দেখা যায়নি। এত দিন তারা ছিল প্রায় অপ্রতিরোধ্য। কিন্তু দিনিয়ের বিপক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত, দেম্বেলের ওপর ফাউলের জন্য পাওয়া ফ্রি-কিক ভিএআরের মাধ্যমে বাতিল হওয়া এবং জুলস কুন্দের বিপক্ষে আরেকটি সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে ফরাসি খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্ষোভ জমতে দেখা যাচ্ছে। এখন দ্বিতীয়ার্ধে দিদিয়ের দেশমের দল ঘুরে দাঁড়াতে পারে কিনা সেটাই দেখার অপেক্ষা।

মিকেল ওইয়ারসাবাল ২০২৫–২৬ মৌসুমে স্পেনের হয়ে নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে করেছেন ১৪। এর মধ্য দিয়ে গড়েছেন নতুন ইতিহাস। এক মৌসুমে জাতীয় দলের হয়ে এত গোল এর আগে কোনো স্প্যানিশ ফুটবলার করতে পারেননি।

এত দিন রেকর্ডটি ছিল দাভিদ ভিয়ার দখলে। ২০০৮–০৯ মৌসুমে তিনি করেছিলেন ১৩ গোল। সেই রেকর্ড ভেঙে এখন শীর্ষে উঠে গেলেন ওইয়ারসাবাল।

পিছিয়ে পড়া স্পেন শিবিরে জন্য দুঃসংবাদ। ৩০ মিনিটে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়লেন উইলিয়াম সালিবা। তাঁর জায়গায় আসলেন ম্যাক্সাঁস লাক্রোয়া।

মিকেল ওইয়ারসাবালের পেনাল্টি গোলে ম্যাচের ২২ মিনিটে লিড নিল স্পেন। এবার ফ্রান্সের জবাব দেওয়ার পালা।

দারুণ এক পেনাল্টি নিলেন ওইয়ারসাবাল। ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মাইক মাইনিয়ঁ ঠিক দিকেই ঝাঁপিয়েছিলেন, নিজের বাঁ দিকে। কিন্তু ওইয়ারসাবালের জোরালো শট গোলরক্ষকের নাগালের বাইরে দিয়ে জালে জড়ায়।

২০ মিনিটের মাথায় ফ্রান্সের বক্সের ভেতর ইয়ামাল ফাউলের শিকার হওয়ায় পেনাল্টি স্পেন।

লুকাস দিনিয়ে বুঝতেই পারেননি, তাঁর ঠিক পেছনেই ছিলেন লামিনে ইয়ামাল। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তিনি ইয়ামালের পায়ে জোরে আঘাত করেন। স্পষ্ট পেনাল্টি।

ডালাসে স্পেন–ফ্রান্সের প্রথম সেমিফাইনাল ম্যাচ শুরু থেকেই জমে ওঠেছে। দুই দলই চেষ্টা করছে একে অপরের ওপর চাপ প্রয়োগ করে সুযোগ তৈরির। ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিটেই বেশ হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে পাওয়া যাচ্ছে। যেকোনো মুহূর্তে দেখা মিলতে পারে গোলেরও।

ম্যাচের ১০ মিনিটের মাথায় ফ্রান্সের বক্সের কাছাকাছি জায়গায় ফ্রি–কিক পেয়েছে স্পেন। তবে ফ্রি–কিকটি কাজে লাগাতে পারেনি স্পেন। মূলত দানি ওলমোকে ফাউল করে স্পেনকে এই ফ্রি–কিক উপহার দিয়েছেন আদ্রিয়াঁ রাবিও। এ জন্য লাল কার্ডও দেখেছেন রাবিও।

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ফ্রান্সের বিপক্ষে সর্বশেষ ১০ দেখায় স্পেন হেরেছে মাত্র দুটি ম্যাচ। বিপরীতে এই সময়ে তারা জিতেছে ৭টি, ড্র করেছে ১টি। সর্বশেষ দুই দেখাতেই জয় স্পেনের—ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে ২-১ এবং ২০২৫ সালের জুনে নেশনস লিগের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৫-৪ ব্যবধানে।

আজও কি তেমন ৫-৪ ব্য