কদবেল বাগানের পরিচর্যা করছেন আনিছুর রহমান পাইলট সমকাল

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের হালিশহরে কারখানায় আগুন আরও পড়ুন চট্টগ্রামের হালিশহরে কারখানায় আগুন

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ০৯:০৯

সরকারি চাকরির আশায় বছরের পর বছর চেষ্টা করেও সফল না হওয়া আনিছুর রহমান পাইলট শেষ পর্যন্ত বেছে নেন কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তার পথ। ছোট ভাই আতিকুজ্জামান সবুজের সহযোগিতায় গড়ে তোলেন ব্যতিক্রমী একটি কদবেলের বাগান। কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই উদ্যোগই এখন সফলতার মুখ দেখছে।

বিজ্ঞাপন

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের ছাতারদীঘি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আফজাল হোসেনের ছেলে আনিছুর রহমান পাইলট ও আতিকুজ্জামান সবুজ এই উদ্যোগের উদ্যোক্তা।

আনিছুর রহমান পাইলট জানান, ২০১৩ সালে স্নাতক (বিএ) পাস করার পর দীর্ঘদিন সরকারি চাকরির জন্য চেষ্টা করেন। না পেয়ে বয়সসীমা শেষ হওয়ার পর নতুন করে জীবনের পথ খুঁজতে শুরু করেন। ঠিক তখনই বাড়ির পাশে জঙ্গলের মধ্যে দাদার আমলের একটি কদবেল গাছ তাঁর নজরে আসে। গাছটির ফল বিক্রি হয় প্রথম বছর প্রায় পাঁচ হাজার টাকা এবং পরিচর্যার পরের বছর প্রায় আট হাজার টাকা আয় হয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বাণিজ্যিকভাবে কদবেল চাষের পরিকল্পনা করেন।

পাইলট জানান, ২০১৯ সালে ছোট ভাই ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে প্রায় তিন বিঘা জমিতে কদবেলের বাগান গড়ে তোলেন। রাঙামাটি থেকে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বারি কদবেল-২ জাতের ১৫০টি কলমের চারা সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি দেশি জাতের আরও ১০০টি চারা বীজ থেকে উৎপাদন করে রোপণ করা হয়।

কৃষি ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে বর্তমানে বিসিএসের প্রস্তুতি নেওয়া আতিকুজ্জামান সবুজ জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি নিয়মিত বাগানের পরিচর্যা করেন। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সার, সেচ, আগাছা দমন ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের কাজ করা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে এবারও ভালো ফল পাওয়া যাবে।

পাইলট জানান, গত বছর বাগানের ৭০টি গাছ থেকে প্রায় ৯০ হাজার টাকার কদবেল বিক্রি করেছেন। এ বছর দেড় থেকে দুই লাখ টাকার ফল বিক্রির আশা করছেন। এ পর্যন্ত বাগান গড়ে তুলতে এক লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ হয়েছে। তবে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে সব গাছে পূর্ণমাত্রায় ফল ধরলে বছরে ছয় থেকে সাত লাখ টাকা আয় সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করছেন।

তিনি বলেন, কদবেল চাষে খরচ কম, শ্রমও তুলনামূলক কম লাগে। অথচ লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই চাকরির পেছনে শুধু সময় নষ্ট না করে শিক্ষিত তরুণদের কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, রাণীনগরে বাণিজ্যিকভাবে কদবেল চাষ এটাই প্রথম। এলাকার মাটি ও জলবায়ু এই ফল চাষের জন্য উপযোগী। আধুনিক পদ্ধতিতে অপ্রচলিত এই ফলের চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষি বিভাগ তাদের নিয়মিত কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছে।