২৭ জুলাই ২০২৬ | ০০:০৪
বরিশালের হিজলা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
আরও পড়ুন
তদন্ত করবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, অভিযানে যাচ্ছে ঔষধ প্রশাসন
রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়নের মান্দা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন গৌরবদী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ফরিদ উদ্দীন ব্যাপারী, যুগ্ম আহ্বায়ক আলম শরীফ সিকদার, জসিম উদ্দীন সিকদার, ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দীন বাবুর্চি, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আক্তার মাঝি ও মোস্তফা বাবুর্চি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে গৌরবদী ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ফরিদ উদ্দীন ব্যাপারী। তিনি উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মনির দেওয়ানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। রোববার বিকেলে নেতাকর্মীদের নিয়ে মান্দা বাজারে গণসংযোগ শেষে আসরের নামাজ আদায় করে ফেরার পথে তার ওপর হামলা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন খোকনের অনুসারী এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য ইসমাইল মোল্লার নেতৃত্বে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী তানভীর তালুকদারের অনুসারী বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় এক মাস আগে গৌরবদী ইউনিয়নের এক ছাত্রদল নেতাকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে ইসমাইল মোল্লার ওপরও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ধারণা, আগের বিরোধের পাশাপাশি ইউপি নির্বাচন ঘিরে আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্ব থেকেই সর্বশেষ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
গৌরবদী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব মোস্তফা সিকদার বলেন, গণসংযোগ চলাকালে ফরিদ উদ্দীন ব্যাপারীসহ অন্তত ১০ জনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তবে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন খোকন বলেন, এটি স্থানীয় দুই পক্ষের বিরোধের জেরে সংঘটিত মারামারির ঘটনা। এর সঙ্গে ইউপি নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।