ছবির উৎস, NurPhoto via Getty Images

বাংলাদেশে চলমান উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় (এইচএসসি) বিজ্ঞান বিভাগের একটি বিষয়ের প্রশ্নপত্রে একাধিক ভুল থাকাকে কেন্দ্র করে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এইচএসসি'র মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নে ভুল রেখে কীভাবে সেটি ছাপানো হলো এবং তা পরীক্ষার কেন্দ্রেও গেলো- সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।

নিপীড়নের বিরুদ্ধে মশাল জ্বেলে গানে গানে প্রতিবাদ শিক্ষার্থীদের আরও পড়ুন নিপীড়নের বিরুদ্ধে মশাল জ্বেলে গানে গানে প্রতিবাদ শিক্ষার্থীদের

সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় বিষয়টি নিয়ে বিক্ষোভ ও সমালোচনা শুরু হওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্বীকার করে নিয়েছে যে, পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের সৃজনশীল অংশের দু'টি প্রশ্নে ভুল ছিল।

ভোগান্তির জন্য দুঃখপ্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন দাবি করেন, তারা দায়িত্ব নেওয়ার আগেই প্রশ্নগুলো তৈরি করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

"আমরা দায়িত্ব পেয়েছি চার মাস। আগের কোয়েশ্চেন মডারেটর কোয়েশ্চেন করেছিল। আপনি জানেন যে, কোয়েশ্চেন মডারেট করতে হলে এই প্রক্রিয়াটি দুই বছর আগে থেকে শুরু করতে হয়। আমরা এসে কোনো কোয়েশ্চেন তৈরি করতে পারিনি। বিগত গভর্নমেন্টের যে মডারেটর ছিল, তারাই কোয়েশ্চেন করেছে," মঙ্গলবার সংসদে বলেন মি. মিলন।

তারপরও যে প্রশ্নগুলোতে ভুল ধরা পড়েছে, খাতা মূল্যায়নের সময় সেগুলোর পূর্ণ নম্বর যোগ করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

এছাড়া যেসব শিক্ষকের ওপর প্রশ্নপত্র চূড়ান্ত করার দায়িত্ব ছিল, তাদেরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও জানান বুধবার জানান মি. মিলন।

বোর্ড কর্মকর্তারা বলছেন, এসএসসি ও এইচএসসি'র মতো পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়াটি বেশ স্পর্শকাতর এবং সময়সাপেক্ষ।

"একটা প্রশ্নপত্রের খসড়া তৈরি করার পর সেটি চূড়ান্ত করে পরীক্ষার হল পর্যন্ত পৌঁছাতে কয়েকটি ধাপ পার করতে হয়। এক্ষেত্রে পুরো প্রক্রিয়াটির সঙ্গে নির্বাচিত কিছু শিক্ষক ও কর্মকর্তা যুক্ত থাকেন এবং প্রতিটি ধাপেই সতর্কতা ও গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম হোসেন আলী।

বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ঘোষণা করেছে যে, এখন থেকে দেশের সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে।

সেই ধারাবাহিকতায় গত দোসরা জুলাই থেকে বাংলাদেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এক্ষেত্রে মানবিক, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগের প্রতিটি বিষয়ে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) এবং সৃজনশীল- এই দুই অংশের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

"এখন যেসব প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে, সেটি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল গতবছর," বলছিলেন ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জেসমিন তাসলিমা বানূ।

কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নপত্র তৈরির জন্য প্রতিটি শিক্ষাবোর্ডেই আলাদা একটি করে তালিকা থাকে।

"সাধারণত অভিজ্ঞ শিক্ষকরাই ওই তালিকায় স্থান পান এবং প্রশ্নপত্র তৈরির ওপর তারা বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত," বলেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মি. আলী।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

তালিকাভুক্ত ওই শিক্ষকদের মধ্য থেকে একেকটি বিষয়ে চারজন শিক্ষককে খসড়া প্রশ্নপত্র তৈরি করতে বলা হয়।

"সাধারণত পরীক্ষা শুরুর অন্তত এক বছর আগে প্রশ্নকর্তাদের খসড়া প্রশ্নপত্র তৈরি করতে বলা হয়। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের মধ্যে যারা যে বিষয়ে অভিজ্ঞ ও পারদর্শী, তারাই ওই বিষয়ে প্রশ্ন তৈরির দায়িত্ব পান," বলেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা মিজ বানূ।

খসড়া প্রশ্নপত্র তৈরির জন্য প্রশ্নকর্তাদের একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়। ওই সময়ের মধ্যে তারা সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নের খসড়া তৈরি করেন।

এক্ষেত্রে চারজন শিক্ষক আলাদাভাবে চারটি খসড়া প্রশ্নপত্র তৈরি করেন। কার প্রশ্নে কী আছে, কেউ জানতে পারেন না।

"সাধারণ শিক্ষা বোর্ড কার্যালয়ের নির্দিষ্ট কক্ষে অবস্থান করে তারা প্রশ্নপত্রের খসড়া তৈরি করেন। ওই সময় অন্যদের কাছ থেকে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়। মোবাইল ফোন, ক্যামেরা বা অন্য কোনো রেকর্ডার সেখানে নেওয়া নিষিদ্ধ থাকে," বলেন মিজ বানূ।

খসড়া প্রশ্নপত্র তৈরির পর একটি নির্দিষ্ট খামে সিলগালা করে সেগুলো বোর্ডে জমা দেন প্রশ্নকর্তা শিক্ষকরা।

ইনস্টাগ্রামে বিবিসি বাংলা ফলো করতে ক্লিক/ট্যাপ করুন এখানে।

খসড়া তৈরির পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সেগুলোর ভুল সংশোধন এবং পরিমার্জনের জন্য আরও চারজন শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তারা শিক্ষা বোর্ডের নির্দিষ্ট কক্ষে প্রশ্ন সংশোধন ও পরিমার্জনের কাজটি করে থাকেন। কেউ চাইলে আগের প্রশ্ন বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন প্রশ্নপত্রও যোগ করতে পারেন।

তবে প্রশ্নে যেন ভুল না থাকে বা প্রশ্নপত্র যেন ফাঁস না হয়, সেজন্য আগের প্রশ্নকর্তাদের মতো তাদেরকেও কাজের সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়।

"এমনকি খাবার-দাবারের জন্যও তারা বাইরে বের হতে পারেন না। কর্তব্যরত অবস্থায় তাদের খাবার-দাবার রুমেই পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কারণ প্রশ্ন চূড়ান্ত হওয়ার জন্য এই ধাপটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ," বলছিলেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মি. আলী।

একেকটি বিষয়ের প্রশ্ন সংশোধন-পরিমার্জনের জন্যও দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়ে থাকে।

ওই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে আগের মতোই তারা একটি নির্দিষ্ট খামে যে যার মতো প্রশ্নপত্র সিলগালা করে স্ব স্ব শিক্ষা বোর্ড জমা দেন।

সংশোধন ও পরিমার্জনের পর প্রতিটি শিক্ষা বোর্ড থেকে একেকটি বিষয়ের ওপর চার সেট করে প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করা হয়।

এরপর সিলগালা করে সেগুলো পাঠানো হয় ঢাকায় আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির কার্যালয়ে।

সাধারণত ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে চেয়ারম্যান এই কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তিনি সবগুলো বোর্ডের প্রশ্ন হাতে পাওয়ার পর সব বোর্ডের কর্মকর্তাদের ডেকে প