সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। ফাইল ছবি
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ | ২০:৫৪ | আপডেট: ২২ জুলাই ২০২৬ | ২২:০৫
আরও পড়ুন
একাধিক রাজ্যে ধরপাকড়, ককরোচেরা উদ্বিগ্ন
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংসদ সদস্যের ভাড়া করা গাড়ির চালক ওবায়দুর রহমান বাদী হয়ে মঙ্গলবার পল্লবী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এ ঘটনায় আমিনুর রহমান নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার রাতে সমকালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির।
মামলার আসামিরা হলেন, গাজী নজরুল ইসলাম (৭৪), আমিনুর রহমান (৫৫), মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোন্তাসিম বিল্লাহ (২৫), রাকিবুল হাসান (৩০)।
ওসি হাসান বাসির বলেন, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচ জনকে আসামি করে মঙ্গলবার পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে আমিনুর রহমান নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন।
পুলিশ জানায়, মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান বাদী হয়ে মঙ্গলবার পল্লবী থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
ওসি জানান, মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ওবায়দুর রহমান পল্লবীতে তার বোনের বাসায় থাকেন। তিনি সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ভাড়া করা প্রাইভেটকারের চালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলাম আগে থেকেই ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগ্নির অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে ওবায়দুর তার পরিবারকে জানান এবং নজরুল ইসলামকে এ ধরনের সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
সম্প্রতি মগবাজারের এক ফ্ল্যাটে নজরুল ইসলাম ও ওবায়দুরের ভাগ্নির কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ একটি চক্রের কাছে যায়। নজরুল ইসলামের ধারণা, ওবায়দুরই গোপন ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম এবং ওই চক্রের হাতে তুলে দিয়েছে। এতে নজরুল ইসলাম তাকে হত্যার হুমকি দেয়। এ নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই রাত ১১টার দিকে নজরুল ইসলামের নির্দেশে অন্য আসামিরা তার বাসায় যান। আসামিরা তার বোন জামাই ও বোনের সঙ্গে কথা বলে তাকে কৌশলে ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। পরে সেখানে অন্য আসামিরা মিলে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে আমিনুর তাকে ফ্লোরে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। তখন তার মা ও ছোট বোন এগিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন তিনি হাসপাতাল থেকে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যান। আসামিরা তাকে যেখানে পাবে সেখানেই হত্যা করবে বলে হুমকি দিতে থাকেন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ–পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খান সমকালকে বলেন, মামলার এক আসামি আমিনুর রহমানকে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।