২৬ জুলাই ২০২৬ | ২১:০১

বরিশালে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশাসনিক সেক্টরে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। নবনিযুক্ত জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুজ্জামানের কক্ষে তালা দিয়েছে বিএম কলেজের একদল ছাত্র। তাদের ভাষ্য, ডা. মনিরজ্জামান আওয়ামী লীগ আমলে সুবিধাভোগী। তাকে সিভিল সার্জনের দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হবে না। তালা দেওয়ার সময়ে সিভিল সার্জন তার দপ্তরে ছিলেন না।

একাধিক রাজ্যে ধরপাকড়, ককরোচেরা উদ্বিগ্ন আরও পড়ুন একাধিক রাজ্যে ধরপাকড়, ককরোচেরা উদ্বিগ্ন

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, তালা দেওয়ার ঘটনার নেতৃত্ব দেন ছাত্রঅধিকার পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেন সোহাগ। ‘২৪-র গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের জেলা সদস্য সচিব ছিলেন। পরবর্তিতে তিনি ছাত্রঅধিকার পরিষদে যোগ দেন।

এর আগে, জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে ডা. এস.এম মনিরুজ্জামান শাহীনকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো। তাকে দোসর আখ্যায়িত করে অপসারনের দাবিতে বিএনপিপন্থি চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) একাংশ আন্দোলন করে। অপর অংশ ডা. শহীনের পক্ষ নিলে দুইপক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে গিয়েছিলো। গত ০৯ জন বিরোধীরা বিভাগীয় পরিচালকের কাযালয় থেকে ডা. শাহীনকে টেনে হিচরে বের করে দেয়। পরবর্তীতে তাকে ওএসডি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আজ রোববার সিভিল সার্জনবিরোধী আন্দোলনে ড্যাব কিম্বা মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের দেখা যায়নি। বিএম কলেজছাত্র সাব্বিরের নেতৃত্বে আন্দোলনে বিভিন্ন কলেজের প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী ছিলো।

জানা গেছে, গত ২১ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পার-২ শাখার যুগ্ম-সচিব সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে ডা. মনিরুজ্জামানকে বরিশালের সিভিল সার্জন পদায়ন করা হয়। ২০২২ সাল থেকে তিনি গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ছিলেন। গত বছর তাকে সেখান থেকে প্রত্যাহার হলে অধিদপ্তরের কেন্দ্রে সংযুক্ত ছিলেন।

তাকে সিভিল সার্জন পদে পদায়নের বিরোধীরা আওয়ামী লীগ আমলে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সঙ্গে সম্পর্কে রেখে চলা এবং তৎকালীন স্থানীয় এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহকে ফুল দেওয়াসহ নানা অভিযেগ তুলেছেন।

আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া সাব্বির হোসেন বলেন, তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে, তাকে বরিশালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা চাই, বিতর্কমুক্ত ও সৎ কর্মকর্তাকে সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক।

‎বিএম কলেজের আরেক শিক্ষার্থী লাবণ্য আক্তার বলেন, বরিশালের মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে। বিতর্কিত কর্মকর্তাকে অপসারণ করে জনস্বার্থে নতুন সিভিল সার্জন নিয়োগ দিতে হবে।

তবে বরিশাল জেলা ড্যাব সভাপতি ডা. কবিরুজ্জামান বলেন, নতুন সিভিল সার্জন ডা. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আমরা সুস্পস্টভাবে কিছু জানি না। কারও বিরুদ্ধে দোসরের অভিযোগ ওঠলে তাকে পদায়ন না করাই ভালো। তবে সরকার যাকেই পদায়ন করুক ড্যাব তাকেই মেনে নেবে। বিএম কলেজ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে ড্যাবের কোনো সম্পৃক্তা নেই।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ডা. মনিরুজ্জামান সমকালকে বলেন, তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ছাত্রদলের রাজনীতি করেছেন। গৌরনদীর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা থাকাকালে পদের স্বার্থে তাকে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় এমপি হাসানাত আবদুল্লাহর কাছে যেতে হয়েছে। তাকে ফুল দিয়েছেন। সেটা তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে করেননি।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বরিশালের নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। বিদায়ী সিভিল সার্জন তাকে আজ রোববার দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা বলে ছিল। কিন্তু তিনি দায়িত্ব না দিয়ে ছুটি নিয়ে ঢাকায় গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদায়ী সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুর এলাহীর ছুটির আবেদন রোববার মেইলে পেয়েছে। তবে তার বদলির আদেশে উল্লেখ রয়েছে, আদেশপ্রাপ্তির ৬ দিনের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে তার অটো অব্যাহতি হবে। ৬ দিন পূর্ণ হওয়ায় ডা. মঞ্জুরের ছুটির আবেদন গৃহীত হয়নি।

স্বাস্থ অধিদপ্তরে বিভাগীয় পরিচালকের দায়িত্বে থাকা উপ-পরিচালক লোকমান হাকিম সমকালকে বলেন, সরকারী দপ্তরে তালা লাগানো বেআইনি। সিভিল সার্জন অফিসে তালা দিতে যাওয়া বিএম কলেজের ছাত্র সোহাগের সঙ্গে তিনি মুঠোফোনে কথা বলেছেন। তাকে বলা হয়েছিলো তালা না দিতে এবং কোন দাবি থাকলে সেটা লিখিতভাবে জানাতে। কিন্তু তারা কথা শোনেননি। স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়ায় বিদায়ী সিভিল সার্জনের ছুটির আবেদন গৃহীত হয়নি বলে উপ-পরিচালক জানিয়েছেন।