২৭ জুলাই ২০২৬ | ১০:১৬

বসতবাড়ির ওপর কোনো ধরনের নতুন কর না বাড়িয়ে নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রথম অর্থবছরের জন্য এক হাজার ৪১৭ কোটি ৪৩ লাখ ৫২ হাজার টাকার বিশাল বাজেট আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে নগরের টিটু মিলনায়তনে আয়োজিত বাজেট অধিবেশনে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন নগর পরিকল্পনাবিদ ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এই বাজেট পেশ করেন।

একাধিক রাজ্যে ধরপাকড়, ককরোচেরা উদ্বিগ্ন আরও পড়ুন একাধিক রাজ্যে ধরপাকড়, ককরোচেরা উদ্বিগ্ন

ঘোষিত বাজেটের আয় বিশ্লেষণে যায়, এর বেশির ভাগ অর্থায়নই উন্নয়ন প্রকল্প ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল। প্রকল্প হিসাব থেকে সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছে ৬৮০ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন হিসাব বা এডিপি থেকে ধরা হয়েছে ৬১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে কর আয় ধরা হয়েছে ৭৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা গত বছরের চেয়ে ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা বেশি। তবে এই বাড়তি কর কেবল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপ করা হবে, বসতবাড়ির ওপর কোনো নতুন কর বাড়ানো হয়নি। বিপরীতে বাজেটে স্থানীয় রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৫৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং মেগা বাজেটের তুলনায় সরকারি অনুদান হিসেবে পাওয়া যাবে মাত্র ৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

সাবেক পৌরসভার প্রচলিত বাজেটের কাঠামোর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, সিটি করপোরেশন হিসেবে এতে নতুন মাত্র দুটি বিশেষ ব্যয় খাত যুক্ত করা হয়েছে। এর একটি হলো মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ খাত, যেখানে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে। অপর নতুন খাতটি হলো ‘স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ’, যার জন্য পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দুটি খাতের পাশাপাশি নগরবাসীর মৌলিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে মশক নিধন কার্যক্রমের বাজেট ১০ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ৬০ লাখ টাকা করা হয়েছে এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বাজেটে বড় অংকের ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বগুড়া শহরের অন্যতম প্রধান ও দীর্ঘদিনের সমস্যা তীব্র যানজট নিরসনে বাজেটে বৈপ্লবিক পরিকল্পনার কথা জানান প্রশাসক। বর্তমানে নগরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রায় ৪০ হাজার অটোরিকশা চলাচল করছে । এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এসব চালিত ৪০ হাজার অটোরিকশার মাত্র চার ভাগের এক ভাগকে অর্থাৎ প্রায় ১০ হাজার অটোরিকশাকে বৈধ সিটি লাইসেন্স দেওয়া হবে এবং বাকিগুলো বন্ধ করা হবে। পাশাপাশি শহরের পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের সুবিধার্থে অবৈধভাবে দখল হওয়া সমস্ত ফুটপাত মুক্ত করা হবে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প নির্দিষ্ট স্থানে বসার ব্যবস্থা করা হবে।

পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটন খাতের প্রসারে সিটি করপোরেশন বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আগামী ৫ বছরের মধ্যে ৫০ হাজার বৃক্ষ রোপণ করা হবে এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে বিনোদন পার্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি পুরোনো পার্কগুলো আধুনিকায়ন করা হবে। নগরের খান্দার এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘নীল সাগর দীঘি’কে কেন্দ্র করে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক লেক পার্ক নির্মাণ করা হবে, যেখানে পর্যটকদের জন্য একটি আধুনিক গেস্ট হাউস এবং শিশুদের জন্য নানা রোমাঞ্চকর রাইডসের ব্যবস্থা থাকবে।

বর্ণাঢ্য এই বাজেট অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাঈদ আলী এবং সচিব পপি খাতুন।