২০ জুলাই ২০২৬ | ১৫:০২

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেডের কারখানায় বিস্ফোরণে দগ্ধ আরও দুই শ্রমিক চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ নিয়ে এ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে। এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও কয়েকজন দগ্ধ শ্রমিক।

তদন্ত করবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, অভিযানে যাচ্ছে ঔষধ প্রশাসন আরও পড়ুন তদন্ত করবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, অভিযানে যাচ্ছে ঔষধ প্রশাসন

মারা যাওয়া দু’জন হলেন বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী ইউনিয়নের চরখিজিরপুর এলাকার নূর ছফার ছেলে নূর নবী হৃদয় (২৫) ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের শান্তিরহাট মধুরামপাড়ার বাসিন্দা উজ্জ্বল দাশ (৫৩)।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানান, গতকাল রোববার বিকেল ৩টার দিকে নূর নবী হৃদয় এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে উজ্জ্বল দাশ মারা যান। দগ্ধ হওয়ার পর থেকে তারা হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে নিবিড় চিকিৎসাধীন ছিলেন। নূর নবী হৃদয়ের শরীরের প্রায় ৪৫ শতাংশ এবং উজ্জ্বল দাশের শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞাপন

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাত্র দুই বছর আগে বিয়ে করেছিলেন নূর নবী হৃদয়। তার এক বছর বয়সি একটি ছেলে রয়েছে। অন্যদিকে, উজ্জ্বল দাশ দুর্ঘটনার কয়েকদিন আগে ঠিকাদারের মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক হিসেবে কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেডে কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি বিরাজ দাশের ছেলে।

এর আগে, গত ১৬ জুলাই সন্ধ্যায় একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দিদারুল আলম (৩২) ও মোহাম্মদ আলম (৪৫)। তাদের মৃত্যুর পর সর্বশেষ আরও দুইজনের মৃত্যুতে কারখানার বিস্ফোরণটি আরও মর্মান্তিক রূপ নিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে বোয়ালখালীর কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেড কারখানায় একটি বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১০ শ্রমিক দগ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। দুর্ঘটনার কারণ ও দায় নিরূপণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।