২৫ জুলাই ২০২৬ | ০৯:০৫

নড়াইলের কালিয়ায় এক ইউপি সদস্যকে ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক চা দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত বৃহস্পতিবার রাতে তারা হত্যার শিকার হন। একই রাতে বরগুনার আমতলীতে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে উদ্ধার হয়েছে এক নারী নির্মাণশ্রমিকের মরদেহ। তাঁকে তিন দিন আগে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। গতকাল শুক্রবার 

তদন্ত করবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, অভিযানে যাচ্ছে ঔষধ প্রশাসন আরও পড়ুন তদন্ত করবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, অভিযানে যাচ্ছে ঔষধ প্রশাসন

সকালে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় এক কৃষকের ও যশোরের অভয়নগরে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির লাশ পাওয়া গেছে।

বাড়ি ফেরার পথে হামলা

বিজ্ঞাপন

কালিয়ায় নিহত মো. মনি মিয়া শেখ (৪৫) উপজেলার জয়নগর ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছিলেন। তিনি চর জয়নগর গ্রামের সোনামিয়া শেখের ছেলে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে পুটিমারি বাজার থেকে কেনাকাটা সেরে হেঁটে বাড়িতে ফিরছিলেন মনি মিয়া। পথে পানিপাড়া গ্রামে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে আহত করে পালিয়ে যায়। মনি মিয়ার চিৎকারে এলাকাবাসী তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা ঢাকায় রেফার করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৩টায় তিনি মারা যান।

নড়াগাতীর থানার ওসি আব্দুর রহমান বলেন, ইউপি সদস্য হত্যার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মাচায় পড়ে ছিল মরদেহ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ব্যাংগাড়ি-ধর্মদহ সড়কের পাশে একটি বাঁশের মাচায় গতকাল শুক্রবার সকালে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় সামিরুল শাহ (৬২) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ। তাঁর শরীর ও মুখে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা, গত বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা।

সামিরুল শাহের বাড়ি মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলায়। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী আদাবাড়িয়া 

ইউনিয়নের ধর্মদহ এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন। চা দোকানের মাধ্যমে পরিবারের খরচ নির্বাহ করতেন।

দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

দুই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা

বরগুনার আমতলীতে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তাঁর স্বামী ও ননদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার স্বামী অজয় হাওলাদার (৩৫) ও বোন রমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে অজয়ের স্ত্রী সুপ্রিয়া হালদারের (৩২) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। 

নিহত সুপ্রিয়ার ১১ বছর ও ৯ মাস বয়সী দুই সন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সুপ্রিয়ার মা দীপালি রানী রাতেই অজয়, তাঁর মা বিমলা রানী, ভাই উত্তম হাওলাদার, উত্তমের স্ত্রী মনিকা, বোন রমা রানী, রেবা রানী, শিখা রানীসহ সাত জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ গতকাল অজয় ও রমাকে গ্রেপ্তার করে।

এদের মধ্যে রমাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান আমতলী থানার ওসি মো. ইয়াকুব হোসাইন। তিনি বলেন, অজয়কে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এদিকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নির্মাণশ্রমিক নয়নী রাজবংশীকে (৫৪) শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় তাঁর সহকর্মী রবিউল মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে লৌহজং নদীর মির্জাপুর পৌর এলাকার আন্ধরা গ্রাম থেকে নয়নার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁকে গত ২১ জুলাই রাতে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মির্জাপুর থানার এসআই রাশেদ ফজল জানান, স্ত্রী ঝগড়া করে চলে যাওয়ার রাগ থেকে রবিউল নয়নীকে খুন করেছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দুজনের মরদেহ উদ্ধার 

চুয়াডঙ্গার আলমডাঙ্গায় নিখোঁজ কৃষক আবুল হোসেনের (৫৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল হারদি ইউনিয়নের ওসমানপুর গ্রামের কাটাখাল মাঠে পাওয়া যায় তাঁর লাশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে কৃষিজমিতে সার দিতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাতে আর ফেরেননি তিনি। 

মরদেহের সুরতহাল করা হয়েছে জানিয়ে আলমডাঙ্গা থানার এসআই আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে যে ক্ষতচিহ্ন দেখা গেছে, তা শিয়ালের আক্রমণে হয়ে থাকতে পারে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিন বিকেলে যশোরের অভয়নগরে ভৈরব নদ দিয়ে ভেসে যাওয়ার সময় এক লাশ উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ। উপজেলার মশরহাটী এলাকায় পাওয়া যায় লাশটি। তবে পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। (তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা)