ছবির উৎস, Sajjad HUSSAIN / AFP via Getty Images
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলমান অনশন ভাঙবেন না শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুক। তার এই বার্তার পরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টিও।
আরও পড়ুন
একাধিক রাজ্যে ধরপাকড়, ককরোচেরা উদ্বিগ্ন
বুধবার বিকেলে সোনাম ওয়াংচুক একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা তাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রদের পরিবারকে সহায়তা ও ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার বিষয়টি তিনি 'বিবেচনা করে দেখবেন'।
কিন্তু এতে সোনাম ওয়াংচুকের অনশন শেষ করা বা ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন থামানোর কোনো ইঙ্গিত নেই।
বরং সোমবার 'সংসদ অভিযান'-এর দুদিন পরে বুধবার বিকেলেও যন্তর মন্তরে হাজির রয়েছেন শত শত আন্দোলনকারী; মাঝে মাঝেই উঠছে স্লোগান; প্ল্যাকার্ড হাতে জড়ো হচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। দিল্লির গরম, আর্দ্র আবহাওয়া ও মাঝেমধ্যেই কয়েক পশলা বৃষ্টি উপেক্ষা করেই মঞ্চের সামনে জমায়েত রয়েছেন ছাত্রছাত্রী ও অন্যান্য বিক্ষোভকারীরা।
তাদের জন্য খাবার আর অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিভিন্ন 'ফুড ডেলিভারি অ্যাপ' এর মাধ্যমে পৌঁছিয়ে দিচ্ছেন বেনামী ব্যক্তিরা, দেশের নানা রাজ্য থেকে। খাবার নিয়ে আসছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও।
অন্যদিকে এই বিক্ষোভ মোকাবিলা করার জন্য একাধিক পন্থা নিচ্ছে সরকারও। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের দায়িত্বে আসা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ২০ কোম্পানি সদস্যকে বিমানে উড়িয়ে নিয়ে আসা হয়েছে দিল্লিতে। বুধবারও বন্ধ রাখা হয়েছে দিল্লি মেট্রোর কয়েকটি স্টেশন।
কিন্তু মঙ্গলবার ২১শে জুলাই রাত পর্যন্ত ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রতিবাদের প্রতি দৃষ্টিকোণ যে খুব একটা বদলায়নি, তা স্পষ্ট হয় রাত ১০টা ৫১ মিনিটে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের করা একটি এক্স পোস্ট থেকে।
সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা 'নিট' এর প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়া এবং তার জেরে অন্তত ২০ জন পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার দায় নিয়ে এই মি. প্রধানেরই পদত্যাগ দাবি করছেন আন্দোলনকারীরা।
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
সামাজিক মাধ্যম এক্স এ শিক্ষামন্ত্রী লেখেন, "সংসদের অধিবেশনে নিট নিয়ে আলোচনা করতে এবং আমাদের তরুণদের প্রতিটি যৌক্তিক উদ্বেগের সুরাহা করতে আমাদের সরকার শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার চেয়ে অনেক ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য ভারতের শিক্ষার্থীরা। বিশৃঙ্খলার পরিবর্তে তারা চায় নিশ্চয়তা, স্লোগানের পরিবর্তে সমাধান এবং বিঘ্ন সৃষ্টির পরিবর্তে দায়িত্বশীলতা।"
অর্থাৎ দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির এই বিক্ষোভকে একটি রাজনৈতিক মদতপুষ্ট বিরোধিতা রূপেই সরকার মূল্যায়ন করছে।
এমনকি সিনিয়র বিজেপি নেতা ও ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও বলেছেন যে ছাত্রদের 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে' হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের বক্তব্যের সমর্থন করেছেন দিল্লির এমপি বাঁসুরি স্বরাজও। এছাড়াও ককরোচ জনতা পার্টির উপর মিথ্যাচারের অভিযোগ এনেছেন তিনি।
মঙ্গলবার ভারতের শাসক জোট ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালয়েন্স বা এনডিএর একটি মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রশ্ন ফাঁস সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপকেই প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, "আমরা ভারতের যুবসমাজের বিশ্বাস অর্জন করব"।
ইনস্টাগ্রামে বিবিসি বাংলা ফলো করতে ক্লিক/ট্যাপ করুন এখানে
ছবির উৎস, Vipin Kumar/Hindustan Times via Getty Images
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সাক্ষাৎ করার জন্য ধন্যবাদ জানালেও সোনাম ওয়াংচুক স্পষ্ট করেছেন যে, এখনই তিনি তার অনশন ভাঙবেন না।
বুধবারই ওয়াংচুককে অনশন ভঙ্গ করার অনুরোধ জানিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সোনাম। সোনাম ওয়াংচুকের বিবৃতি আসার আগেই তিনি আবেদন করেন, "আপনি দেশের যুবসমাজের জন্য যা করেছেন তাকে অনুপ্রেরণা করেই আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব, কিন্তু আপনি আর নিজের শরীর স্বাস্থ্য নষ্ট করবেন না।"
যদিও সোনাম ওয়াংচুক তার বিবৃতিতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে এখনই অনশন ভঙ্গ করছেন না।
সোমবারের বিক্ষোভ দেখানো ছাত্র জনতারা যাতে কোনো রকম আইনি সমস্যার মুখোমুখি না হন, সেই অনুরোধ তিনি রেখেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ৬৫ জন সংসদ সদস্য তাকে অনশন ভঙ্গের অনুরোধ করেছেন এবং বলেছেন যে দেশের স্বার্থে তার জীবিত থাকা প্রয়োজন।
এছাড়াও তিনি আরেকটি যে নতুন দাবি রেখেছেন; সেটি হলো, শুধু তার কথায় নয়, দেশের লাখো ছাত্র-যুবর কথা মতো সরকার কাজ করলেই তিনি তার অনশন ভঙ্গ করবেন।
তিনি বলেন, "দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে যারা সম্মতি জানায় তাদের উপর নয়, বরং প্রতিবাদী ছাত্র যুবদের সঙ্গে কী ব্যবহার করা হবে- সেই সিদ্ধান্ত যারা নেন তাদের উপর।"
এই বিবৃতির পরে ককরোচ জনতা পার্টি জানিয়েছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন একইভাবে চলবে।
ছবির উৎস, Arvind Yadav/Hindustan Times via Getty Images
একদিকে যখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মি. ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করেছেন, তার মধ্যেও আন্দোলন মোকাবিলা করতে যে সরকার কোনো ফাঁক রাখছে না তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে কলকাতা থেকে ২০ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী বা সিআরপিএফকে এয়ারলিফ্ট করে দিল্লি নিয়ে আসার সিদ্ধান্তে।
এই বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না এলেও সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, সিজেপির নেতৃত্বে যুব সমাজের বিক্ষোভ ও তাদের সঙ্গ দেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর বিক্ষোভ - এই দুই সামাল দিতেই ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০ কোম্পানি সিআরপিএফ বাহিনীকে দিল্লিতে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।
অন্যদিকে দিল্লি মেট্রো কর্তৃপক্ষ এই আন্দোলনের জেরের লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, কেন্দ্রীয় সচিবালয়, প্যাটেল চক ও রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ মেট্রো স্টেশন বন্ধ রেখেছে। এই মেট্রো স্টেশনগুলোয় যাত্রীরা প্রবেশ বা বাইরে যেতে পারবেন না।
তবে এই স্টেশনগুলোর মধ্যে যেগুলো ইন্টারচেঞ্জ স্টে